হৃদয়ে পাকুন্দিয়ার সুন

সর্বশেষ সংবাদ

পাকুন্দিয়ায় অভিনব প্রতারণার শিকার কাজীর পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
জেলহাজতে বন্দি পাকুন্দিয়ার পৌর
কাজী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম
কাজল স্ট্রোক করেছে বলে কাজীর
পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের
মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে
নেয়ার চেষ্টা করছে প্রতারক চক্র।
শুক্রবার রাতে পৌরসভার মরুড়া
গ্রামের বাল্যবিবাহ রেজিস্ট্রির
অভিযোগে পৌর কাজীকে এক
মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন
ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ
আদালতের বিচারক উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রথম শ্রেণির
ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোশারফ
হোসেন খানের নির্দেশে দণ্ডিত
কাজীকে শনিবার জেল কর্তৃপক্ষের
কাছে হস্তান্তর করে পাকুন্দিয়া
থানা পুলিশ। এমতাবস্থায় কাজী
স্ট্রোক করেছে মর্মে প্রচারণা
চালিয়ে পাকুন্দিয়া থানার
দারোগা, কিশোরগঞ্জ কারাগারের
জেল সুপার ও ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক
পরিচয়ে কাজীর পরিবারের কাছ
থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে
নেয়ার চেষ্টা করে প্রতারক চক্রটি।

রোববার রাত সোয়া ৯টার দিকে
পাকুন্দিয়া থানার এসআই নাজমুল
হাসান পরিচয়ে ০১৭৪৫৮৮৬৭৩১ থেকে
ফোন দেন পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের
কাউন্সিলর সুজন লাটকে। জানান,
কাজী কারাগারে স্ট্রোক করলে
তাকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সংবাদটি কাজীর পরিবারকে
জানাতে বলেন এবং কিশোরগঞ্জ
কারাগারের জেল সুপারের সঙ্গে
যোগাযোগ করতে ০১৭৪৫২৩৬৭৮২ এ
নম্বরটি দেয়। পৌর কাউন্সিলর সংবাদ
পাঠালে কাজীর বড় ভাই আবদুল কদ্দুস
মাস্টারসহ স্বজনরা আসেন। কাউন্সিলর
সুজন লাটের মোবাইল থেকে রাত
পৌনে ১০টায় ০১৭৪৫২৩৬৭৮২ নম্বরে
ফোন করলে কারাগারের জেল সুপার
পরিচয় দিয়ে বলেন, ঢাকা বঙ্গবন্ধু
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের
চিকিৎসক নজরুল ইসলামের সঙ্গে
যোগাযোগ করতে। তিনি ওই
চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে
০১৯২১৬৯১১৮৯ নম্বরটি দেন। একই সময়ে কাউন্সিলরের মোবাইল থেকেই ফোন
করেন ওই নম্বরে। ফোন রিসিভ করে
তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালের চিকিৎসক নজরুল ইসলাম
বলে পরিচর দেন। রোগীর হাল-অবস্থা
জানতে চাইলে বলেন, আশঙ্কাজনক,
এখনই অপারেশন করা না হলে বাঁচিয়ে
রাখাটা অসম্ভব। অপারেশন করতে হলে
৬০ হাজার টাকা লাগবে।
চিকিৎসকের ০১৯২১৬৯১১৮৯ নম্বরে
বিকাশ করে ৩০ হাজার টাকা
পাঠিয়ে বাকি ৩০ হাজার টাকা
নিয়ে মেডিকেলে চলে আসতে
বলেন। এরপর কয়েকবার কথিত
চিকিৎসকের নম্বর থেকে ফোন দিয়ে
বিকাশে টাকা পাঠাতে এবং
পরিবারে সিদ্ধান্ত জানতে তাগিদ
দেন। এমন সময় বাড়িতে ফিরছিলেন
পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের
আহ্বায়ক এখলাছ উদ্দিন। জেলহাজতে
বন্দি কাজীর বাড়ির পাশেই
ছাত্রলীগ নেতার বাড়ি। ঘটনা
শোনার পর সন্দেহ হলে পৌর
কাউন্সিলর ও কাজীর ভাই-স্বজনদের
নিয়ে পাকুন্দিয়া থানায় যান।
থানায় গিয়ে প্রথমেই জানতে
পারেন দারোগার পরিচয়ে যে নম্বর
থেকে ফোন দিয়েছেন সেটি এসআই
নাজমুল হাসানের নম্বর নয়। ওসি
(ইনচার্জ) হাসান আল মামুন রাতেই
কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে
জানতে পারেন কাজী কারাগারে
সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। অতঃপর সবাই
নিশ্চিত হন প্রতারণার বিষয়টি।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা
গেছে প্রতারণার চেষ্টার এ
কাহিনী।


মান্না/২১/০৩/১৬/পাকুন্দিয়া প্রতিদিন

পাকুন্দিয়ায় অভিনব প্রতারণার শিকার কাজীর পরিবার পাকুন্দিয়ায় অভিনব প্রতারণার শিকার কাজীর পরিবার Reviewed by পাকুন্দিয়া প্রতিদিন on ৬:১৭:০০ PM Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Advertisement