অভিনন্দন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলকে!
সাফ অনুর্ধ্ব ১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের
সোনার হরিণ ট্রফিটি এখন
বাংলাদেশের ছেলেদের
হাতে। ভারতকে ২ গোলের
ব্যবধানে হারিয়ে এ ট্রফির
মালিক হয়েছে তারা।
পাকুন্দিয়া প্রতিদিন এর পক্ষ্য রইল অভিনন্দন!
মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩
মিনিটে মাঠে গড়ায়
শিরোপার লড়াই। অপ্রতিরোধ্য
বাংলাদেশের বিপক্ষে গত
বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতও
তাদের সবটুকু দিয়ে খেলেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ
করে দিয়ে সফলতা ছিনিয়ে
আনে বাংলাদেশ।
সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে
অনুষ্ঠিত টুর্ণামেন্টের
ফাইনালে মাঠের ৯০ মিনিটের
খেলায় বাংলাদেশ ভারতকে
চেপে ধরলেও প্রথমার্ধ ছিল
গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধ ১-১
গোলের সমতায় শেষ হয়।
শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-২
গোলে বিজয় নিশ্চিত করে
বাংলাদেশ। ফলে দক্ষিণ
এশিয়ার ফুটবলে নতুন ইতিহাস
রচনা করেছে বাংলাদেশের
কিশোররা। আর ভারতের
ছেলেরা অশ্রুভেজা চোখে
বিদায় নেয় মাঠ থেকে।
প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ
হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে
এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথম
মিনিটেই মধ্যভাগের
খেলোয়াড় ফাহিম মোর্শেদ
এগিয়ে নেন বাংলাদেশ দলকে।
অসাধারণ ফুটবল নৈপুন্য দেখিয়ে
চলা বাংলাদেশের ছেলেরা
একের পর এক সুযোগ তৈরি করে।
কিন্তু ভারতের প্রতিরোধের
মুখে তারা সুযোগগুলো কাজে
লাগাতে পারেনি।
কিন্তু ১৮ মিনিটে ভারতের
মধ্যভাগের খেলোয়াড় অময়
অভিনেষ ডি-বক্সের কর্ণার
থেকে অসাধারণ শটে সরাসরি
বল পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশ
দলের জালে। সমতায় ফেরে
ভারত।
এরপর থেকে আক্রমণ ও পাল্টা
আক্রমণে খেলা চলছিল।
অতিরিক্ত ৩ মিনিট দেওয়া হলে
প্রথম মিনিটেই ভারতের গোল
বারের ডান দিক থেকে
অসাধারণভাবে একটি বল নিয়ে
জালে পৌঁছান সাদ। তবে সাইড
লাইনের বাহির থেকে বল নিয়ে
আসার কারণে গোলটি হিসেবে
আসেনি।
৬ টা ৫৭ মিনিটে বিদ্যুৎ
বিভ্রাটের কারণে অন্ধকারে
নিমজ্জিত হয় পুরো স্টেডিয়াম।
৭টা ৮ মিনিটে খেলা শুরু হলেও
১ মিনিট পরেই রেফারির বাঁশি
বেজে উঠে।
পরে টাইব্রেকারে সিদ্ধান্ত হয়।
৫টি করে শট নেওয়ার কথা
থাকলেও ৪র্থ শটে
বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়ে
যায়। আর ভারতের
খেলোয়াড়দের নেওয়া ৪ টি
শটের ২টি ফিরিয়ে দিতে সক্ষম
হন ফয়সল আহমদ।
বাংলাদেশের পক্ষে গোল ৪টি
করেন ফাহিম, সজীব, আতিক ও
সাদ। আর ভারতের পক্ষে দুটি
গোল করেন বদলি খেলোয়াড়
মেহের ও রাকিব।
সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে
বিকেল ৫টা ৩ মিনিটে
শিরোপার লড়াই শুরু হয়।
বাংলাদেশ দল প্রথম থেকেই
ভারতকে চেপে ধরে। কিন্তু
জালে বল জড়াতে পারেনি।
প্রথমার্ধে বেশ ক’টি সুযোগ
হাতছাড়া হয়েছে তাদের।
ভারতের রক্ষণভাগও শক্ত
প্রতিরোধ গড়ে তুলে।
ভারতের খেলোয়াড়রাও
কয়েকটি সুযোগ পেয়েছে।
তারাও কাজে লাগাতে
পারেনি সে সুযোগগুলো।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে
গোল করলেও ৫মিনিটে, ২৬
মিনিটে এবং ৩০, ৩৩ মিনিটে
সুযোগ হাতছাড়া করে
বাংলাদেশ দলের ছেলেরা। ৫
মিনিটে সাদ মধ্য মাঠ থেকে
একের পর এক ভারতের
খেলোয়াড়দেও বাঁধা অতিক্রম
করেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত
গোলকিপারের বাঁধায় গোল
পাননি।
৩৩ মিনিটে ফাহিম পেয়ে যান
সুযোগ। প্রতিপক্ষের প্যানাল্টি
বক্সের ভেতরে ভারতের জালে
পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু
দ্রুতগতির শটটি গোলবার থেকে
অনেক দূর দিয়ে অতিক্রম করে।
খেলায় ম্যাচ সেরার পুরষ্কার
তোলে দেওয়া হয় বাংলাদেশ
দলের অধিনায়ক শাওনের হাতে
আর টুর্ণামেন্ট সেরা হন
আতিকুজ্জামান।
শেষ পর্যন্ত বিজয়মালা গলায়
নিয়ে বাংলাদেশ দল মাঠ
ছেড়েছে। তাদের সাথে
জেলা স্টেডিয়ামে খেলা
উপভোগ করতে আসা ৩০ হাজার
দর্শকও মনের শান্তনা নিয়ে মাঠ
ছাড়ে। যারা বিভাগের প্রত্যন্ত
অঞ্চল থেকে দুপুর থেকেই এসে
জড়ো হয়েছিল স্টেডিয়ামে;
বাংলাদেশের খেলা উপভোগ
করতে। মাঠে উপস্থিত হয়ে
‘বাংলাদেশ’ ‘বাংলাদেশ’
ধ্বনিতে উচ্চকিত করেছে
গ্যালারি। প্রেরণা জুড়িয়েছে
খেলোয়াড়দের। তারা বিজয়ের
হাসি হেসে ফিরেছে ঘরে।
খেলা শেষে পুরষ্কার বিতরণ
করেন ক্রীড়া উপ-মন্ত্রী আরিফ
খান জয়, বাংলাদেশ ফুটবল
ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট
কাজী সালাহ উদ্দিন, ভাইস
প্রেসিডেন্ট সালাম
মোর্শেদী, বাদল রায়,
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক
মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট
সিটি কর্পোরেশনের সাবেক
মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান,
জেলা আওয়ামী লীগের
সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি
শফিকুর রহমান চৌধুরী, সদর
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান
আশফাক আহমদ, বিসিবি’র
পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী
নাদেল, সিলেট জেলা ক্রীড়া
সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও ফুটবল
এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট
মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম প্রমুখ।
Reviewed by পাকুন্দিয়া প্রতিদিন
on
৮:৪৯:০০ AM
Rating:
কোন মন্তব্য নেই: