নূরুল জান্নাত মান্না, কিশোরগঞ্জ থেকে
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর অতি সুপরিচিত একটি নাম। এর রয়েছে ইতিহাস ঐতিহ্য। আছে প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন। বারভূঁইয়ার প্রধান বীর ঈশা খাঁর দুর্গ ছিল এখানে। ঈশা খাঁ ও মোগল সেনাপতি মানসিংহের মধ্যে ইতিহাসখ্যাত যুদ্ধও হয়েছিল এখানে।
বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় লালমাটির এ অঞ্চলটি সবচেয়ে প্রাচীন। এর নিদর্শন এ স্থানের একাধিক প্রাচীন সমাধি। তেমনি দুটি
প্রাচীন সমাধির অনন্য নিদর্শন শাহ মাহমুদ মসজিদ ও সাদী মসজিদ। এছাড়াও রয়েছে কিংবদন্তির বেবুদ রাজার দিঘি। সরকারি কোনো
পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় অযতে অবহেলায় পড়ে রয়েছে প্রাচীন এ ঐতিহ্যগুলো। সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে এখানে একটি পিকনিক স্পট গড়ে তুললে ইতিহাসখ্যাত এ অঞ্চলের পরিচিতি একদিকে যেমন তুলে ধরা যাবে অপরদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও এখানে
পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থার লোকজন প্রতœতত্ত্বের বিভিন্ন গবেষণার জন্য প্রায়ই এগারসিন্দুর ভ্রমণ করে থাকেন। এক্ষেত্রে বাণিজ্যিকভাবে পিকনিক স্পট হলে গবেষণার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন বেড়াতে আসবেন এখানে।
এগারসিন্দুরের ঐতিহ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এর দুর্গ। এই দুর্গ নির্মাতা নিয়ে রয়েছে মতভেদ। কেউ বলেন রাজা আজাহাবা আবার কারো মতে বেবুদ রাজা এবং কেউ বলেন রাজা গৌর গৌবিন্দ। সুলতানি আমলের পরই এগারসিন্দুর এলাকাটি কোচ হাজংদের অধীনে চলে যায়।
বাংলার বারভূঁইয়ার প্রধান ঈশা খাঁ কোচ হাজং রাজাদের পরাজিত করে এগারসিন্দুর দুর্গটি দখল করেন। এ দুর্গ থেকেই ঈশা খাঁ পরবর্তী
সময়ে মোগল সেনাপতি রাজা দুর্জন সিংহ ও পরে রাজা মানসিংহকে পরাজিত করতে সমর্থ হন। তখন থেকেই এগারসিন্দুর দুর্গটি ঈশা খাঁর দুর্গ নামে খ্যাত। উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মঠখোলা- মির্জাপুর-পাকুন্দিয়া সড়কের পাশে এটি অবস্থিত। এগারসিন্দুরের একটি প্রাচীন স্থাপত্য হচ্ছে শাহ মাহমুদ মসজিদ ও বালাখানা। গবেষকদের মতে, এটি ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়। বর্গাকৃতির এ মসজিদটির প্রতিট বাহু ৩২ ফুট। চার কোণায় ৪টি বুরুজ রয়েছে। আছে একটি বিশাল গম্বুজ। দুই পাশে দুটি সরু মিনার রয়েছে। ভিতরে পশ্চিমের দেওয়ালে ৩টি মেহরাব আছে। শাহ মাহমুদ এই
মসজিদ ও বালাখানা নির্মাণ করেছিলেন বলে এর নামকরণ হয় শাহ মাহমুদ মসজিদ। এছাড়াও এখানে সম্রাট শাজাহানের রাজত্বকালে ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয় সাদী মসজিদ। পোড়ামাটির অলংকরণে সমৃদ্ধ এ মসজিদটি সম্পূর্ণ ইটের তৈরি। এটি এক গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকৃতি মসজিদ। প্রতি বাহুর দৈর্ঘ্য ২৭ ফুট। চারপাশে চারটি বুরুজ রয়েছে। পূর্ব দেওয়ালে ৩টি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালে ১টি করে প্রবেশদ্বার রয়েছে।
প্রবেশপথগুলোর চারদিকে পোড়ামাটির চিত্র ফলকের কাজ রয়েছে।
ভিতরে ৩টি অনিন্দ্য সুন্দর মেহরাব রয়েছে যা টেরাকোটার দ্বারা অলংকৃত।
১০৬২ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে শাজাহান বাদশা গাজীর রাজত্বকালে
শেখ নিরুর পুত্র সাদীর উদ্যোগে এ মসজিদটি নির্মিত হয় বিধায় এর নামকরণ
হয় সাদী মসজিদ। এগারসিন্দুরের প্রাচীন ঐতিহ্যের মধ্যে বেবুদ রাজার দিঘি অন্যতম।
বেবুদ নামে হাজং রাজা বাস করতেন এখানে।
একবার প্রচ- খরা দেখা দেওয়ায় রাজা প্রজাদের
কল্যাণে ৫০ একর জমিবিস্তৃত একটি দিঘি কাটলেন।
কিন্তু পানি নেই। এরই
মধ্যে রাজা স্বপ্নে দেখেন তার
রানী যদি দিঘিতে নামে তবে
পানি উঠবে। স্বপ্নের কথা
রাজা রানীকে জানালে
প্রজাদের দুঃখ লাঘবে রানী
দিঘিতে নামতে রাজি হলেন।
এতে রাজা খুশি হলেন এবং
পরদিন রানী এক বাটি কাঁচা দুধ,
পান সুপারি ও সিঁদুর নিয়ে
আনুষ্ঠানিকভাবে দিঘিতে
নামলেন। সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশ
থেকে স্বচ্ছ জল এসে দিঘি ভরে
গেল। কিন্তু রানী আর দিঘি
থেকে উঠতে পারলেন না।
চোখের পলকে রানীর কেশগুচ্ছ
বৃত্তাকারে ঘুরতে ঘুরতে
নিমজ্জিত হয়ে গেল। রাজা
রানীর জন্য পাগলপ্রায় হয়ে
গেলেন। দিঘিটি গভীর থাকায়
পানি খুবই স্বচ্ছ দেখায়। বেবুদ
রাজা দিঘিটি খনন করেন
বিধায় তার নামানুসারে এ
দিঘিটি বেবুদ রাজার দিঘি
নামে পরিচিত। এ দিঘির
পানিতে গাছের পাতা
কিংবা অন্য কোনো কিছু পড়ে
থাকলে তা পরদিন সকালে
পাড়ে এসে জমা হয়। লোকমুখে
শোনা যায়, কোনো অনুষ্ঠানের
জন্য দিঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে
থালা, বাসন ও অন্যান্য তৈজসপত্র
চাইলে পরদিন দিঘির পাড়ে তা
পাওয়া যেত। তবে শর্ত ছিল যা
যা নেওয়া হতো তা সঠিকভাবে
ফেরৎ দিতে হবে। কিন্তু একদিন
কেউ এ শর্ত ভঙ্গ করায় এরপর থেকে
তৈজসপত্র আর পাওয়া যায়নি।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর অতি সুপরিচিত একটি নাম। এর রয়েছে ইতিহাস ঐতিহ্য। আছে প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন। বারভূঁইয়ার প্রধান বীর ঈশা খাঁর দুর্গ ছিল এখানে। ঈশা খাঁ ও মোগল সেনাপতি মানসিংহের মধ্যে ইতিহাসখ্যাত যুদ্ধও হয়েছিল এখানে।
বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় লালমাটির এ অঞ্চলটি সবচেয়ে প্রাচীন। এর নিদর্শন এ স্থানের একাধিক প্রাচীন সমাধি। তেমনি দুটি
প্রাচীন সমাধির অনন্য নিদর্শন শাহ মাহমুদ মসজিদ ও সাদী মসজিদ। এছাড়াও রয়েছে কিংবদন্তির বেবুদ রাজার দিঘি। সরকারি কোনো
পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় অযতে অবহেলায় পড়ে রয়েছে প্রাচীন এ ঐতিহ্যগুলো। সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে এখানে একটি পিকনিক স্পট গড়ে তুললে ইতিহাসখ্যাত এ অঞ্চলের পরিচিতি একদিকে যেমন তুলে ধরা যাবে অপরদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও এখানে
পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থার লোকজন প্রতœতত্ত্বের বিভিন্ন গবেষণার জন্য প্রায়ই এগারসিন্দুর ভ্রমণ করে থাকেন। এক্ষেত্রে বাণিজ্যিকভাবে পিকনিক স্পট হলে গবেষণার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন বেড়াতে আসবেন এখানে।
এগারসিন্দুরের ঐতিহ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এর দুর্গ। এই দুর্গ নির্মাতা নিয়ে রয়েছে মতভেদ। কেউ বলেন রাজা আজাহাবা আবার কারো মতে বেবুদ রাজা এবং কেউ বলেন রাজা গৌর গৌবিন্দ। সুলতানি আমলের পরই এগারসিন্দুর এলাকাটি কোচ হাজংদের অধীনে চলে যায়।
বাংলার বারভূঁইয়ার প্রধান ঈশা খাঁ কোচ হাজং রাজাদের পরাজিত করে এগারসিন্দুর দুর্গটি দখল করেন। এ দুর্গ থেকেই ঈশা খাঁ পরবর্তী
সময়ে মোগল সেনাপতি রাজা দুর্জন সিংহ ও পরে রাজা মানসিংহকে পরাজিত করতে সমর্থ হন। তখন থেকেই এগারসিন্দুর দুর্গটি ঈশা খাঁর দুর্গ নামে খ্যাত। উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মঠখোলা- মির্জাপুর-পাকুন্দিয়া সড়কের পাশে এটি অবস্থিত। এগারসিন্দুরের একটি প্রাচীন স্থাপত্য হচ্ছে শাহ মাহমুদ মসজিদ ও বালাখানা। গবেষকদের মতে, এটি ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়। বর্গাকৃতির এ মসজিদটির প্রতিট বাহু ৩২ ফুট। চার কোণায় ৪টি বুরুজ রয়েছে। আছে একটি বিশাল গম্বুজ। দুই পাশে দুটি সরু মিনার রয়েছে। ভিতরে পশ্চিমের দেওয়ালে ৩টি মেহরাব আছে। শাহ মাহমুদ এই
মসজিদ ও বালাখানা নির্মাণ করেছিলেন বলে এর নামকরণ হয় শাহ মাহমুদ মসজিদ। এছাড়াও এখানে সম্রাট শাজাহানের রাজত্বকালে ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয় সাদী মসজিদ। পোড়ামাটির অলংকরণে সমৃদ্ধ এ মসজিদটি সম্পূর্ণ ইটের তৈরি। এটি এক গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকৃতি মসজিদ। প্রতি বাহুর দৈর্ঘ্য ২৭ ফুট। চারপাশে চারটি বুরুজ রয়েছে। পূর্ব দেওয়ালে ৩টি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালে ১টি করে প্রবেশদ্বার রয়েছে।
প্রবেশপথগুলোর চারদিকে পোড়ামাটির চিত্র ফলকের কাজ রয়েছে।
ভিতরে ৩টি অনিন্দ্য সুন্দর মেহরাব রয়েছে যা টেরাকোটার দ্বারা অলংকৃত।
১০৬২ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে শাজাহান বাদশা গাজীর রাজত্বকালে
শেখ নিরুর পুত্র সাদীর উদ্যোগে এ মসজিদটি নির্মিত হয় বিধায় এর নামকরণ
হয় সাদী মসজিদ। এগারসিন্দুরের প্রাচীন ঐতিহ্যের মধ্যে বেবুদ রাজার দিঘি অন্যতম।
বেবুদ নামে হাজং রাজা বাস করতেন এখানে।
একবার প্রচ- খরা দেখা দেওয়ায় রাজা প্রজাদের
কল্যাণে ৫০ একর জমিবিস্তৃত একটি দিঘি কাটলেন।
কিন্তু পানি নেই। এরই
মধ্যে রাজা স্বপ্নে দেখেন তার
রানী যদি দিঘিতে নামে তবে
পানি উঠবে। স্বপ্নের কথা
রাজা রানীকে জানালে
প্রজাদের দুঃখ লাঘবে রানী
দিঘিতে নামতে রাজি হলেন।
এতে রাজা খুশি হলেন এবং
পরদিন রানী এক বাটি কাঁচা দুধ,
পান সুপারি ও সিঁদুর নিয়ে
আনুষ্ঠানিকভাবে দিঘিতে
নামলেন। সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশ
থেকে স্বচ্ছ জল এসে দিঘি ভরে
গেল। কিন্তু রানী আর দিঘি
থেকে উঠতে পারলেন না।
চোখের পলকে রানীর কেশগুচ্ছ
বৃত্তাকারে ঘুরতে ঘুরতে
নিমজ্জিত হয়ে গেল। রাজা
রানীর জন্য পাগলপ্রায় হয়ে
গেলেন। দিঘিটি গভীর থাকায়
পানি খুবই স্বচ্ছ দেখায়। বেবুদ
রাজা দিঘিটি খনন করেন
বিধায় তার নামানুসারে এ
দিঘিটি বেবুদ রাজার দিঘি
নামে পরিচিত। এ দিঘির
পানিতে গাছের পাতা
কিংবা অন্য কোনো কিছু পড়ে
থাকলে তা পরদিন সকালে
পাড়ে এসে জমা হয়। লোকমুখে
শোনা যায়, কোনো অনুষ্ঠানের
জন্য দিঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে
থালা, বাসন ও অন্যান্য তৈজসপত্র
চাইলে পরদিন দিঘির পাড়ে তা
পাওয়া যেত। তবে শর্ত ছিল যা
যা নেওয়া হতো তা সঠিকভাবে
ফেরৎ দিতে হবে। কিন্তু একদিন
কেউ এ শর্ত ভঙ্গ করায় এরপর থেকে
তৈজসপত্র আর পাওয়া যায়নি।
এগারসিন্দুর সম্ভাবনাময় পিকনিক স্পট
Reviewed by A1
on
৯:০৩:০০ PM
Rating:
Reviewed by A1
on
৯:০৩:০০ PM
Rating:


কোন মন্তব্য নেই: