হৃদয়ে পাকুন্দিয়ার সুন

সর্বশেষ সংবাদ

পাকুন্দিয়ায় সবজি চাষের বিপ্লব

নিজস্ব প্রতিবেদক,

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার ক্ষেতখামারে
সবজির বাগান দেখে চোখ জুড়ায় ও মন ভরে ওঠে। মাঠের পর মাঠ বিস্তীর্ণ সবুজের প্রান্তর আর চোখ জুড়ানো সবজি বাগান এ যে বাংলারই চিরায়ত রূপ।

পাকুন্দিয়ার প্রতিটি গ্রামই নানা জাতের সবজি চাষের মোক্ষম স্থান। কুমড়া, শিম,
করলা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, চিচিংগা,
শশা, আলু, লাউসহ সবধরনের সবজি চাষের উত্তম ও উৎকৃষ্ট স্থান হলো পাকুন্দিয়ার বিস্তীর্ণ প্রান্তর।

ফলে সবজি বাগান করে এখানকার চাষিদের
অর্থনৈতিক বুনিয়াদ যেমন শক্ত হয়েছে তেমনি তাদের জীবন-মানও ক্রমেই
উন্নততর হচ্ছে। পাকুন্দিয়ার জাঙ্গালিয়া, সুখিয়া, চরফরাদি, এগারসিন্দুর,
মঙ্গলবাড়িয়া, হোসেন্দিসহ সর্বত্রই রকমারি সবজির চাষ হচ্ছে। এসব অঞ্চলে দিগন্ত
বিস্তারি সবজির বাগান এবং সবুজের সমারোহ সকলের দৃষ্টি কাড়ে। বাগানের পর বাগান। কারো বাগানে ফুলকপি ফলেছে।
আবার কারো বাগানে ধরেছে শিম অথবা লাউ, শশা। এখানে বিভিন্ন মওসুমে বিভিন্ন জাতের সবজির চাষ হয়। শীতকালে এখানকার চাষিরা বাগান করেন শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ,
বেগুন, আলু ও টমেটোর।

অন্যান্য সময় তারা বাগান করেন প্রধানত কুমড়া, চিচিংগা ও করলার। তবে
সারা বছর ধরেই এখানে
সবজির চাষাবাদ হয়ে থাকে।
সুখিয়ার আব্দুর রহিম, আব্দুর
কুদ্দুস, রমজান আলী, মেনু
মিয়া ফুলকপি ও শিম চাষ
করেছেন।
তারা জানান, এবারও ফলন
ভালো হয়েছে। বেশ
লাভবান হওয়ার সম্ভাবনার
কথাও জানালেন তারা।
চরফরাদির রোকন উদ্দিন,
শাহজাহান, মইন
উদ্দিন প্রত্যেকেই সারা বছর
ধরেই নানা জাতের সবজির
চাষ করেন। এতে করে তাদের
আয় রোজগারও বেড়েছে।
এখানকার কৃষকরা জানান,
তাদের এসব সবজি স্থানীয়
হাট-বাজারে বিক্রি হয়।
আবার জেলার বিভিন্ন
অঞ্চলের পাইকাররাও কিনে
নিয়ে যান। ঢাকার কাওরান
বাজারে এসব সবজি চালান
হয়। ট্রাক বোঝাই সবজি
পাইকাররা নিয়ে যায়।
এখানকার সবজির যথেষ্ট
চাহিদা রয়েছে বলে
চাষিরা জানালেন।

চরফরাদি ও
জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে
শীতকালে প্রচুর শিম, ফুলকপি,
বাঁধাকপি, বেগুন চাষ করা হয়।
এই এলাকার পাশ ঘেঁষে বয়ে
যাওয়া ব্রহ্মপুত্র
নদের পলিবাহিত
অববাহিকার প্রায় ৬
কিলোমিটার জুড়ে চাষিরা
শুধুই শিমের চাষ করেন। শিম
চাষের আগে একই জমিতে
তারা করলার চাষ করে
থাকেন। করলা চাষের জন্য
নির্মিত মাচা
পরবর্তীতে শিম চাষের
কাজে লাগে। এতে করে
তাদের সবজি চাষে
ব্যয়ও অনেকাংশে লাঘব হয়।
এখানকার চাষিরা
জানালেন, ২৫/৩০ বছর পূর্বে
এখানে সবজি তেমন একটা
হতো না। তখন সাধারণত
এই অঞ্চলে ধান, পাট ও ইক্ষুর
চাষ করা হতো। এখন হয়েছে
এর উল্টোটি। কৃষি বিভাগের
কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মীদের
পরামর্শ ওসহায়তায় তারা
সবজি চাষের প্রতি আকৃষ্ট ও
উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এ জন্য তারা
কৃষি বিভাগের কাছে ঋণী
বলেও জানান।
কৃষি বিভাগের সার্বিক
সহযোগিতা ও এখানকার
চাষিদের নিরলস চেষ্টায়
চাষাবাদে বৈপ্লবিক
পরিবর্তন এসেছে। এই
পরিবর্তন তাদের জীবন
মানেও বেশ পরিবর্তন এনে
দিয়েছে। ফলে যাদের এক
সময় ছনের ঘর ছিল এখন তাদের
টিনের ঘর হয়েছে। এই
সবজি চাষ করে অনেকেই
আধা-পাকা ঘর তুলেছেন।
তাদের ছেলে মেয়েরা এখন
বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। ঘরে
ঘরে শিক্ষার আলো
পৌঁছে গেছে এবং শিক্ষা,
স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য বিষয়ে
তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি
পেয়েছে। অন্যদিকে আধুনিক
জীবন ব্যবস্থার প্রতিও তাদের
আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। গত
প্রায় দেড় যুগ ধরে এখানকার
রাস্তাঘাটের উন্নতি ও
যাতায়াত ব্যবস্থার
নানাবিধ সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার
কারণেও এখানকার চাষিগণ
সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে
ওঠেছেন। কারণ
রাস্তাঘাটের উন্নয়নের
ফলে তাদের উৎপাদিত সবজি
বিভিন্ন স্থানে সহজেই
পরিবহন করা যাচ্ছে।
পাইকারগণ গ্রামগুলো থেকে
নানা জাতের সবজি
কিনে নিয়ে বিভিন্ন
স্থানে এসব সবজি বিক্রি
করার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় উভয়ই
লাভবান হচ্ছেন। তাছাড়া,
এলাকার চাষিদের
ঋণ সহায়তায় বিভিন্ন ব্যাংক
এগিয়ে আসায় তারা সময়মত
ও নির্বিঘ্নে চাষাবাদ
করতে পারছেন। সহজশর্তে এই
ঋণ সুবিধা আরও বৃদ্ধি করা
হলে উৎপাদন আরও সমপ্রসারিত
হবে এমন দাবিও অনেকে
করেছেন। স্থানীয় কৃষি অফিস
সূত্র জানায়, উপজেলায় প্রায়
দেড় হাজার হেক্টর জমিতে
সবজির চাষ করা হচ্ছে।
এখানকার চাষিরা খুবই
উদ্যমী এবং পরিশ্রমী হওয়ায়
তারা সফলতা লাভ করতে
পারছেন। জেলা কৃষি
সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-
পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম
জানান, পাকুন্দিয়া
সবজি উৎপাদনের দিক থেকে
জেলার সেরা উপজেলা।
কৃষি বিভাগ সেখানকার
সবজি চাষিদের পরামর্শসহ
কৃষি উপকরণ
দিয়ে নানাভাবে সাহায্য
করছে। জাতের পরিবর্তন ও
সবুজ সারের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং
সেক্সফেরোমন ফাঁদ প্রযুক্তির
মাধ্যমে বিষমুক্ত সবজি
চাষের জন্যও কৃষি বিভাগ
কাজ করে যাচ্ছে
বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পাকুন্দিয়ায় সবজি চাষের বিপ্লব পাকুন্দিয়ায় সবজি চাষের
বিপ্লব Reviewed by পাকুন্দিয়া প্রতিদিন on ৬:০৫:০০ AM Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Advertisement